যেভাবে নারীবান্ধব হলো নার্সিং পেশা:
রুফাইদা আল আসলামিয়া (রহঃ) মেডিসিন ইতিহাসে প্রথম নার্স হিসেবে স্বীকৃত রুফাইদা (রহঃ)-এর পুরো নাম রুফাইদা বিনতে সাদ আল আসলামিয়া। তিনি মদিনার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাদ আল আসলামি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে চিকিৎসা শিখতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। রুফাইদা আহতদের সেবায় মসজিদে একটি তাঁবু করেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াজ বনু মখজুম গোত্রের আবু ওসামা জাশমী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত একটি তীর দ্বারা আহত হন। মুহাম্মদ বলেন তাকে দ্রুত রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও। খাইবার যুদ্ধে আহত মুসলিম মুজাহিদদের সুস্থ করতে তিনি মাতৃত্বের মমতাময়ী হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই অবিস্মরণীয় কুরবানী এবং সেবা-শুশ্রূষার স্বীকৃতিস্বরূপ রাসূল পুরুষ মুজাহিদদের সাথে তাকেও গনিমতের মালের হিস্যা দেন।
১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত যোদ্ধাদের পাশে এক নারী বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেবার হাত। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ১৭ বছর বয়সে ঠিক করেছিলেন সেবিকা হবেন। সে যুগে ধনী পরিবারের শিক্ষিত নারীরা এ কাজ করতেন না, সমাজে এটি বিবেচিত হতো ছোট কাজ হিসেবে। মা-বাবার ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও ফ্লোরেন্স নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অবশেষে মা-বাবা বাধ্য হয়ে তাঁকে অনুমতি দিলেন।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল (নার্সিংয়ের জনক) তিনিও বিশ্বাস করতেন নার্সিংটা মেয়েদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ নার্স বললে মেয়েদের অবয়ব বা কোমলপ্রাণ এটি বোঝায়। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা নারীদের জন্য শুরু করেছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নার্সিংয়ে ৯০ শতাংশই নারীরা। বাংলাদেশে পুরুষ নার্সের সংখ্যা শতকরা মাত্র ১০ ভাগ। বাকি ৯০ শতাংশই নারী নার্স।
নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বলছে, নারী জাতি মমতাময়ী, এজন্যই তাদের সেবার মহান এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে, পুরুষ নার্সদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন আছে।