লেখক ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন

সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নার্স ও মিডওয়াইফদের করণীয়:
১। রক্তবাহিত রোগ (এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি) সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য প্রতিবারই হাত ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ত্বক শুকিয়ে যাওয়া রোধে নিয়মিত আর্দ্রতা রক্ষাকারী লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা।
২। সুচ ব্যবহারের ফলে আঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল আয়ত্ত করা।
৩। কর্মক্ষেত্রে সর্বদা সঠিক সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্র (PPE) এবং প্রয়োজনীয় পোশাক পরিধান করা। ক্ষেত্রবিশেষে গ্লাভস যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নাও হতে পারে (এক্ষেত্রে বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য দ্বারা হাত পরিষ্কার করা)।
৪। যথাযথ জুতা ব্যবহার করা (চলাফেরা ও দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে এবং মেঝেতে পড়ে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র থেকে আঘাত প্রতিরোধে)।
৫। কীভাবে নিরাপদভাবে রোগীকে তুলতে হয় তা ভালোভাবে আয়ত্ত করা।
৬। বিশেষ পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক অবস্থায় কাজ করার ক্ষেত্রে (কাঁধ বরাবর থেকে উপরের দিকে হাত রেখে কাজ করার সময়) প্রয়োজনীয় বিরতি নেওয়া।
৭। পালাক্রম অনুযায়ী কাজ করার ক্ষেত্রে নির্দেশনা মেনে চলা এবং পর্যায়ক্রমে একাধিক শিফটে কাজ করার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা।
৮। দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে কাজ করার ফলে মনের উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে তা থেকে মুক্ত হতে বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ সেশনের আয়োজন করা।
৯। কর্তৃপক্ষ বা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য অনুরোধ করা।
১০। ওয়ার্ড ও করিডোরে হাঁটা চলার রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও জিনিসপত্র সরিয়ে রাখা।
১১। হাসপাতালের অভ্যন্তরে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে তার ব্যবস্থা ও সংরক্ষণ করা।
১২। কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী তাপ বিকিরণের মাত্রা যথাসম্ভব কম রাখা এবং সুরক্ষা প্রদানকারী পোশাক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
১৩। নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে কর্মরত বা সংশ্লিষ্ট বিভাগে যদি কোনো রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে যারা এ ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন তাদের অবশ্যই তাপ বিকিরণজনিত ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কীভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ধারণা প্রদান করতে হবে।